রাণীনগর (নওগাঁ) প্রতিনিধি: নওগাঁর রাণীনগরে চলতি রোপা-আমন মৌসুমে ধানের চারা প্রস্তুত থাকলেও নিম্নাঞ্চল প্লাবিত থাকায় ধান রোপণ করতে পারছেন না স্থানীয় চাষিরা।ধীরগতিতে পানি নামতে শুরু করলেও জমিগুলো ধান রোপণের উপযোগী না হওয়ায় কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত না হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
আবার নিচু যেগুলো জমিতে ধানের বিচতলা বপন করে ছিলো কৃষক সেগুলো জমি থেকে পানি ধীর গতিতে নামায় সেগুলো বিচতলা বেশির ভাগ পঁচে গেছে।আবার যেসকল কৃষক উঁচু ভিটেমাটিতে ধানের বিচতলা বপন করেছিলো তাদের কোনো সমস্যা নেই বলে বলছেন কৃষকরা।
তবে কৃষি বিভাগ জানিয়েছে,রোপণের পর্যাপ্ত সময় এখনো বাকি রয়েছে হতাশ হওয়ার কিছু নেই।কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে,চলতি রোপা-আমন মৌসুমে রাণীনগর উপজেলার ৮টি ইউনিয়নে মোট ১৯ হাজার ৭০ হেক্টর জমিতে ধান চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এই লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে প্রায় ৯১৫ হেক্টর জমিতে বীজতলা তৈরি করা হয়।
ইতোমধ্যে উপজেলার উঁচু জমিগুলোতে রোপা-আমন ধান লাগানো শুরু হয়েছে এবং প্রায় সাড়ে ৫ হাজার হেক্টর জমিতে রোপণ সম্পন্ন হয়েছে। কিন্তু নিম্না অঞ্চল সহ উপজেলার ৫টি ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ মাঠের কিছু নিচু জমিগুলোতে এখনো হাঁটু থেকে কোমর সমান পানি থইথই করছে।
ফলে চারা প্রস্তুত থাকা সত্ত্বেও নিম্নাঞ্চলের কৃষকরা মাঠে নামতে পারছেন না।আবার বিচতলার অস্বাভাবিক বয়স হয়েগেলে সেগুলো বিচতলা রোপন করলে ধানের ফলনে আসেনা তাই কৃষকরা তারাহুরো করলোও সেই তারাহুরো কাজে আসছেনা।
পানি কমলেই তারা পুরোদমে রোপণ কাজ শুরু করবেন।এ বিষয়ে রাণীনগর উপজেলা কৃষি অফিসার মোস্তাকিমা খাতুন জানান,উপজেলার ৮টি ইউনিয়নের মধ্যে প্রায় ৫টি ইউনিয়নের আবাদযোগ্য নিচু জমি পানিতে তলিয়ে থাকায় চাষিরা কিছুটা পিছিয়ে পড়েছেন। তবে টানা কয়েকদিন রোদ হলে পানি দ্রুত নেমে যাবে। এখনো ধান রোপণের উপযুক্ত সময় হাতে রয়েছে,তাই কৃষকদের হতাশ না হয়ে ধৈর্য ধরার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। কৃষি বিভাগ আশা করছে, সময়মতো পানি নেমে গেলে অর্জিত লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করা সম্ভব হবে।