নিজস্ব প্রতিবেদক : আসন্ন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে দলের মহাসচিব ও স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী (এলজিআরডি) মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে চূড়ান্ত মনোনয়ন দেওয়ার পর মন্ত্রিসভায় বড় ধরনের রদবদলের আলোচনা শুরু হয়েছে। রাষ্ট্রপতি পদে নির্বাচিত হলে দলীয় পদ ও মন্ত্রিত্ব ছাড়তে হবে মির্জা ফখরুলকে।
ফলে গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে পরিবর্তন আনার প্রস্তুতি চলছে বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে। প্রশাসনিক কার্যক্রমের ধারাবাহিকতা বজায় রাখা এবং সরকারের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক গতিশীলতা নিশ্চিত করতেই এই রদবদল হতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে।
ইতোমধ্যে মির্জা ফখরুলের হাতে থাকা এলজিআরডি মন্ত্রণালয় এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সম্ভাব্য পরিবর্তনের বিষয়টি নিয়ে আলোচনা চলছে। বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) দুপুরে দলীয় একটি সূত্র জানায়, এলজিআরডি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব বর্তমান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদের হাতে দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনায় রয়েছে।
অন্যদিকে, সালাহউদ্দিন আহমেদের পরিবর্তে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে থাকা শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানিকে দেওয়ার বিষয়ে আলোচনা চলছে বলেও জানা গেছে। তবে মন্ত্রিসভায় সম্ভাব্য এই রদবদল এখনো চূড়ান্ত হয়নি বলে বিএনপির শীর্ষ পর্যায়ের একটি সূত্র জানিয়েছে।
রাষ্ট্রপতি নির্বাচন ও নতুন রাষ্ট্রপতির শপথের আনুষ্ঠানিকতা শেষ হওয়ার পর মন্ত্রিসভায় পরিবর্তনের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসতে পারে বলে দলীয় সূত্রের দাবি। এদিকে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর রাষ্ট্রপতি পদে নির্বাচিত হলে বিএনপির মহাসচিবের পদও শূন্য হবে। ওই পদে দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীকে ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবের দায়িত্ব দেওয়ার বিষয়েও দলের ভেতরে আলোচনা চলছে বলে জানা গেছে।
প্রসঙ্গত, গত ২৪ জুলাই ২২তম রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন পদত্যাগ করেন। এরপর নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত সংবিধান অনুযায়ী স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করছেন। আগামী ২০ আগস্ট দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। সংসদে বিএনপির সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকায় দলীয় প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নির্বাচিত হওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা রয়েছে।
নির্বাচন শেষে নতুন রাষ্ট্রপতির শপথ এবং আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হওয়ার পরই মন্ত্রিসভায় সম্ভাব্য রদবদলের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসতে পারে। ফলে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনকে ঘিরে শুধু বঙ্গভবন নয়, সরকারের মন্ত্রিসভাতেও বড় ধরনের পরিবর্তনের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।